Nov 5, 2017
20 Views
Comments Off on স্বামীর টাকায় ‘দ্বিতীয় সংসারের’ স্বপ্ন ছিল আরজিনার
0 0

স্বামীর টাকায় ‘দ্বিতীয় সংসারের’ স্বপ্ন ছিল আরজিনার

স্বামী জামিল শেখকে হত্যার পর তার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরকীয়া প্রেমিক শাহীন মল্লিকের সঙ্গে ‘দ্বিতীয় সংসার’ শুরু করার ‘স্বপ্ন’ ছিল আরজিনা বেগমের। নতুন সংসার সংকটমুক্ত রাখতে জামিলের সুদে ছাড়া টাকা শাহীনের হাতে তুলে দেয়ারও পরিকল্পনা করেন তিনি।

স্বামী ও ৯ বছরের মেয়ে নুসরাত জাহান জিদনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরজিনা ও তার পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেফতারের পর শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ আরও জানায়, এদিন হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আরজিনা। আর শাহীন মল্লিককে চারদিনের রিমাণ্ডে নিয়েছে বাড্ডা থানা পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জামিলকে হত্যার পর শাহীন আরজিনাকে বলে, নুসরাতকে বাঁচিয়ে রাখলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবে। তখন বিয়েতো হবেই না, দুইজনকেই জেলে যেতে হবে। বরং তাকে মেরে ফেললে জামিল শেখের হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকবে না। তাই জামিলকে খুন করার কয়েক মিনিট পরই নুসরাতকে গলা টিপে ও মুখে বালিশ চেপে হত্যা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের কবরস্থান রোডের ৩০৬ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে প্রাইভেট গাড়িচালক জামিল শেখ ও তার মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জামিলের স্ত্রী আরজিনা ও রংমিন্ত্রী শাহীনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই শামীম শেখ। লাশ উদ্ধারের পরপরই আরজিনাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর গত শুক্রবার ভোরে খুলনা থেকে শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় ধরা পড়ে শাহীনের স্ত্রী মাসুমা। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা লাঠি ও গামছা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, বাবা-মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আরজিনা ও শাহীন। ময়নারবাগ কবরস্থান গলির যে বাসায় তারা খুন হয়েছে, ওই বাসার একশ’ মিটার দূরে একটি বাড়ির নিচতলায় দুই সন্তান ও স্ত্রী আরজিনাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন জামিল। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় সস্ত্রীক ভাড়া থাকতো শাহীন। বাসায় ওঠা-নামার সময় আরজিনার সঙ্গে দেখা হত তার। কারণে অকারণে আরজিনার প্রশাংসা করতো সে। এতে আরজিনাও খুশি হতো। এভাবে কয়েকদিন শাহীনের কাছ থেকে নিজের সৌন্দর্য্য ও চালচলনের প্রশংশা শুনে তার প্রতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে শাহীনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।

পুলিশ আরও জানায়, আগে থেকেই স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল আরজিনার। গত মাসে ওই বাসা ছেড়ে ৩০৬ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দুই কক্ষ ভাড়া নেন জামিল। ওই বাসার একটি কক্ষে শাহীনকে সাবলেট নিতে বলেন আরজিনা, যাতে তারা পাশাপাশি থাকতে পারেন। তার কথা মতো শাহীন সস্ত্রীক সাবলেট নেন। ইতিমধ্যে আরজিনা শাহীনকে আশ্বস্ত করেন, তিনি স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করবেন। কিন্ত জামিল বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তাই তাকে শেষ করে দেওয়ার প্রস্তাব করে শাহীন। একপর্যায়ে হত্যা করার সিদ্ধান্ত হয়। হত্যায় ব্যবহৃত কাঠটি আগের দিন সকালে বাইরে থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসে শাহীন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে জামিল ঘুমিয়ে পড়লে আরজিনা দরজা খুলে দেন। শাহীন কাঠ দিয়ে জামিলের মাথায় প্রথমে আঘাত করার পরই জামিল উঠে বসেন। কেনো মারছেন, তার কারণ জানতে চান তিনি। এ সময় পরপর আরও ৪-৫টি আঘাত করা হয় মাথায়। পাশে ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে নুসরাত জেগে উঠে শাহীনকে বলে,’আংকেল আব্বুকে মারছো কেনো।’ এ সময় আরজিনাকে দিয়ে নুসরাতকে ঘরের বাইরে বের করে দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর শাহীনও বাইরে যায়। পরে নুসরাত হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলেছে, তাকে বাঁচিয়ে রাখলে সমস্যা হবে। জেলে যেতে হবে। তাকে মেরে ফেলার কথা বলে শাহীন। আরজিনা প্রথমে রাজী না হলেও পরে দ্বিতীয় বিয়ের স্বপ্নে মেয়েকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই নুসরাতকে ঘরে নিয়ে আরজিনার সহায়তায় গলাটিপে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে শাহীন। জামিলকে হত্যার সময় ঘুমন্ত ছোট ছেলে আলফি জেগে উঠলেও পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ায় সে বেঁচে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ জানান, ঘরে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও নিজের স্বর্ণালংকার শাহীনের হাতে তুলে দেন আরজিনা। এছাড়া জামিলের সুদে ছাড়া টাকাও তোলার পরিকল্পনার কথা তিনি শাহীনকে বলেন। হত্যার পর স্ত্রী মাসুমাকে নিয়ে খুলনা চলে যায় শাহীন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর শাহীনের স্ত্রী মাসুমা জেগে উঠে রক্ত দেখে ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপরও তিনি জড়িত আছেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ সমকাল

বিভাগ:
জাতীয়

Comments are closed.